লড়াই শুরু হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল

লড়াই শুরু হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল

বাংলাভাষী ডেস্কঃঃ

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লড়াই শুরু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ জেগে উঠেছে, রাস্তায় নেমেছে। অধিকার আদায়ে মানুষ আর পিছিয়ে নেই। এখন শুধু আমাদেরকে সাহস শক্তি সঞ্চয় জোগাড় করে রক্ত দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যেতে হবে। আমাদেরকে আরেকটা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এদেরকে (সরকার) পরাজিত করতে হবে।’

সোমবার (২১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরবঙ্গ ছাত্র ফোরাম এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ তোমাদের (সরকার) বিচার করবে জনতার আদালতে তোমাদের বিচার হবেই। এখনো সময় আছে নিরাপদে সরে দাঁড়ান। তা না হলে জনগণের যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে সুনামির মত আপনাদেরকে বসিয়ে নিয়ে যাবে এবং এর নেতৃত্বে আছেন তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমান।’

বিচার বিভাগ ও বিচারপতিদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দয়া করে ন্যায় বিচার করুন। কারণ, এই দেশে বহু নজির আছে বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে ওই জনতা। কোনো কিছুতেই পার পাবেন না। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে এখন গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের প্রায় ৩০ লক্ষ নেতা-কর্মী আসামি ইতিমধ্যে ৭ যোদ্ধা প্রাণ দিয়েছেন। এর মূল্য অবশ্যই তোমাদেরকে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খারাপ সময়ের মধ্যে আছি ব্যবসা বন্ধ কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া যাচ্ছে না অথচ বলা হচ্ছে রাশিয়া ইউরোপিয়ান যুদ্ধের প্রভাব। রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব হয়তোবা কিছুটা আছে কিন্তু যে দেশের সরকার দেশের অর্থনীতিকে লুট করে বিদেশে পাচার করে তাদের কি হবে। এরা মানুষকে মানুষ মনে করে না। দেশকে মনে করে পৈতৃক সম্পত্তি।’

সরকার ও আওয়ামী লীগের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে নেতা বলেন, ‘তোমাদের মিথ্যাচার সকলেই অবগত তোমাদের কেউ বিশ্বাস করে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ যেই নেতার দিকে তাকিয়ে আছে তিনি তারেক রহমান। তিনি আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করছেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সামনে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান ২০০১ সালের নির্বাচনের আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন এই মুহূর্তে নতুন করে তিনি ভাবনায় এনেছেন বর্তমান সরকারের পতনের লক্ষ্যে আন্দোলনকারী সমস্ত দলগুলোকে নিয়ে এ সরকারের পতনের পর জাতীয় সরকার গঠন করবেন। কারণ, বর্তমান সরকার দেশকে ডাস্টবিন বানিয়েছে সেখান থেকে উত্তোলন করতে হলে বিচার ব্যবস্থা শিক্ষা কাজ স্বাস্থ্য সর্বক্ষেত্র ঢেলে সাজাতে হবে। সত্যিকার অর্থে আধুনিক জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’