সেদিন গোধূলি সন্ধ্যা ছিল

সেদিন গোধূলি  সন্ধ্যা ছিল

উপন্যাস 

------------

-------------

-পর্ব এক-

আজ নিলয়ের খুব মন খারাপ,অহনার কথা বার বার মনে পড়ছে।

নিলয় ফোনটা হাতে নিয়ে অহনার নাম্বারে ফোন করলো।

অপর প্রান্ত থেকে জানিয়ে দেওয়া হল,দুঃখিত এই মূহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নিলয় আবার ফোন করলো,একই উত্তর দুঃখিত এই মুহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।

নিলয় ফোনটা রেখে দিলো,আজ নিলয়ের মনটা ভিষণ খারাপ লাগছে।

ভাবছে নিলয় অহনার কথা,সেই ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ওদের প্রথম দেখা হয়েছিলো,একটি কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানে।

সেই থেকে ওদের দুজনের পরিচয়,আর এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে ওদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

নিলয় এবং অহনা যদিও ভিন্ন ভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়ে,

তবু দুজনের সব সময় ফোনে কথা হতো,মাঝে মাঝে দুজন নির্জনে বসে গল্প করতো।

নিলয় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষ ইংরেজীতে পড়ে,

আর অহনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ২য় বর্ষের ছাত্রী। 

নিলয়ের বাবা হোসেন আলী একজন কৃষক,মা ছবুরণ নেসা গৃহিণী,দুই ভাইয়ের ভিতর নিলয় বড়,ছোট ভাইটা নবম শ্রীনিতে পড়ে,সাতক্ষীরার অজপাড়া গাঁয়ের গ্রাম থেকে এসেছে নিলয়,

গ্রাম্য সরলতার স্পষ্ট ছবি তার চেহারায়।

নিলয় কিন্তু খুব মেধাবি,দেখতেও মোটামুটি সুন্দর।

আর অহনার বাবা মুজাহিদ প্রফেসর,মা পারভীন বেগম গৃহিণী।

এক ভাই প্রিন্স,প্রিন্স বড় আর অহনা ছোটা,নাটোরের অভিজাত পরিবারে অহনা বড় হয়েছে এবং সবার আদরের সে।

অহনা সব জেনে শুনে তারপর নিলয়কে ভালবেসে,কারণ গ্রামের এই ছেলেটার ভিতর অহনা সরলতার স্পষ্ট ছাপ খুঁজে পেয়েছে যেখানে নেই কোন কৃত্রিমতার কোন ছাপ।

এটাই অহনার ভাল লাগার কারণ,কিন্তু অহনা ধনীর একমাত্র মেয়ে।

নিলয়ের ভয় এখানে, যদি অহনা কখনো যদি নিলয়কে ভুল বুঝে হারিয়ে যায় তার জীবন থেকে।

সেদিন নিলয় কি করবে এটাই ভাবছে বসে বসে,হঠাৎ অহনার ফোন এলো,

নিলয়ের অপেক্ষার বাধ ভাঙ্গা আনন্দ মনে এবং একটা শিহরণ সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়লো।

নিলয় রিসিভ করলো ফোনটা,অপর প্রান্ত থেকে অহনার কন্ঠ ভেসে এলো,কেমন আছ তুমি?নিলয় বলল,ভাল আছি তবে তোমার ফোনটা বন্ধ ছিল কেন?অহনা বলল,ফোনে চার্জছিলনা তাই।

নিলয় উত্তরে শুধু বলল ও আচ্ছা।

অহনা বলল,কাল তো ইউনিভার্সিটিতে গ্রীষ্মের ছুটি হয়ে যাচ্ছে,চলনা আমরা কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসি।

নিলয় বলল,কবে যেতে চাও?অহনা বলল,আগামী সপ্তাহে,নিলয় সম্মতি দিল আগামী সপ্তাহ মানে কি বার,অহনা বলল,চলনা আগামী শনিবার।

নিলয় আর অহনা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো আগামী শনিবার ওরা দু'জন কক্সবাজারের উদ্দেশ্য রওনা হবে।

আজ নিলয়ের খুশির বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার বইছে মনে,তার প্রিয়তমা অহনা খুব কাছ থেকে দেখতে পাবে,সমুদ্রের তীর ঘেঁষে হাটবে দু'জন।

হাতে হাত রাখবে উন্মত্ত সমুদ্রের নোনা জলে জলকেলি খেলবে,সুর্য অস্ত দেখবে।

রাতে নিলয়ের আর ঘুম আসছে না,কি যেন শিহরণ সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়লো।

এভাবে ভাবতে ভাবতে নিলয়ের সময় কাটলো।

পরের দিন রাত নেমে এলো,পড়া শেষ করে খেয়ে শুয়ে পড়লো।

নিলয় ফোনটা হাতে নিলো এবং অহনা ফোন করলো,অপর প্রান্ত থেকে অহনা বলল,এত রাতে কেন ফোন দিয়েছো?

নিলয় বলল,কেন জানি ঘুম আসছে না আমার।

শুধু তোমার কথা মনে পড়ছে,অহনা এক গাল হেঁসে উঠলো এবং বলল,আমারও তোমার কথা খুব খুব মনে পড়ছে তাই আমিও জেগে আছি।

নিলয় বলল,জানো এই যে ঘুম না আসা এটা কি প্রেম রোগ?

অহনা হেসে বলল,বোধহয়।

নিলয় বলল,তুমি সত্যি সুন্দর শুধু ঝগড়াটা বাদ দিলে।

অহনা বলল,কি আমি ঝগড়াটে?ঠিক আছে তুমি ভালো একটা মেয়ে দেখে প্রেম কর,আমি গেলাম।

নিলয় বলল,প্লীজ যেওনা আমি এমনি বললাম।

তুমি তো জানো এই জন্য তোমাকে কাক পাখি বলি,অহনা অভিমানের সুরে বলল,হয়েছে এখন রাখো।

নিলয় অহনা ফোনে একটা চুম্বন করে জানতে চাইলো আগামী শনিবার কয়টার সময় বেরুবো আমরা,অহনা বলল,সকাল দশটার ট্রেনে যাবো আমরা।

নিলয় বলল,ঠিক আছে কাক পাখি তাহলে এখন ঘুমায়।

নিলয় আদর করে অহনা কে সব সময় কাক পাখি বলে ডাকে,অহনা ও ভাল লাগে নিলয়ের মুখ থেকে এই ডাকটা শুনতে।