আজ রাতেই বিলীন হবে এক আস্ত সভ্যতা: ট্রাম্প
ইরান-মার্কিন যুদ্ধের এক ভয়াবহ চূড়ান্ত মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অভাবনীয় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মঙ্গলবার রাতে তার দেয়া সময়সীমা বা 'ডেডলাইন' শেষ হওয়ার প্রাক্কালে তিনি জানিয়েছেন, আজ রাতেই একটি সম্পূর্ণ ‘সভ্যতা’ বিলীন হয়ে যেতে পারে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা মারা যাবে, যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এটাই হতে যাচ্ছে। তবে ধ্বংসের হুমকির পাশাপাশি তিনি একটি প্রচ্ছন্ন আশার কথাও শুনিয়েছেন।
তিনি বলেন, যদি সেখানে সম্পূর্ণ শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং তুলনামূলক বুদ্ধিমান ও কম উগ্রবাদী কেউ ক্ষমতায় আসে, তবে হয়তো বৈপ্লবিক ও চমৎকার কিছু ঘটতে পারে। কে জানে? আজ রাতেই আমরা তা জানতে পারব। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘ ৪৭ বছরের ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মৃত্যু’র অবসান ঘটার এখনই সময়।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মঙ্গলবার মার্কিন সময় সময় রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল) মধ্যে যদি তেহরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয় এবং একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতুতে একযোগে বোমাবর্ষণ শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা এই সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতেই নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর হয়েছে
এর জবাবে ইরানও ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েকশ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে বিশ্ববাজার, আকাশপথ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসে আজকের রাতটিকে ট্রাম্প ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি’ বলে অভিহিত করেছেন। যদি শেষ মুহূর্তে কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও অপূরণীয় ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।


