সুপারমার্কেটের ফ্রিজারে আটকা পড়ে এক মায়ের মৃত্যু

সুপারমার্কেটের ফ্রিজারে আটকা পড়ে এক মায়ের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে একটি ডলার ট্রি স্টোরের ওয়াক-ইন ফ্রিজারে জমে মারা যাওয়া এক চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষ থেকে স্টোর ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ডলারের (৫০ মিলিয়ন) মামলা করা হয়েছে।
নিহত ওই নারী হলেন ৩২ বছর বয়সী অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডা. হেলেন মাসিয়েল গারায় সানচেজ। গত ১৪ ডিসেম্বর ডলার ট্রি স্টোরে যাওয়ার পরের দিন সকালে স্টোরের এক কর্মচারী স্টকরুমের কুলারের ভেতরে তার নগ্ন মরদেহ দেখতে পান। পরে ৯১১ নম্বরে ফোন করা হয়।
মায়ামি পুলিশ জানিয়েছে, ডা. সানচেজকে জোরপূর্বক ফ্রিজারের ভেতরে ঢোকানো হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কীভাবে তিনি ফ্রিজারের ভেতরে আটকা পড়লেন, তা এখনো রহস্যজনক।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, স্টোর ম্যানেজার ইয়ানেলকিস গনজালেজকে জানানো হয়েছিল যে একজন ক্রেতা দোকান ছাড়েননি। তা সত্ত্বেও তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা বা ব্যবহার করেননি, যার মাধ্যমে জানা যেত ডা. সানচেজ তখনো দোকানের ভেতরে ছিলেন কি না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে ডা. সানচেজকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হন ম্যানেজার এবং তিনি কোনো ধরনের জরুরি সহায়তা বা চিকিৎসা সহায়তা ডাকেননি।
এছাড়া দোকান বন্ধের সময় সব ক্রেতা দোকান ত্যাগ করেছেন কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং তা বাস্তবায়নে চরম অবহেলার অভিযোগও আনা হয়েছে গনজালেজের বিরুদ্ধে।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, যে ফ্রিজারটিতে ডা. সানচেজ আটকা পড়েছিলেন সেটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং স্টোরের কর্মীরা ক্রেতাদের সেখানে প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ফ্রিজারের ভেতরে আটকে পড়ার পর ডা. সানচেজ হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হন। এই অবস্থায় অনেক সময় ‘প্যারাডক্সিক্যাল আনড্রেসিং’ ঘটে, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত গরম লাগার ভ্রমে নিজের পোশাক খুলে ফেলেন—যা তার নগ্ন অবস্থায় মৃত্যুর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং স্টোরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।