ইংল্যান্ডে হোমলেস ছাত্রদের কাপড় ধুয়ে স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন মহান শিক্ষকরা
সাইফ হাসান
ইংল্যান্ডে হোমলেস শিশুদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন শিক্ষকরা যা এক অনন্য মানবিক নজির স্থাপন করেছে। থাকার জায়গা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী কষ্টে আছে তাই স্কুলগুলো তাদের খাবার ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করছে। এমনকি ছাত্রদের নোংরা ইউনিফর্ম ধুয়ে দিচ্ছেন শিক্ষকরা যাতে তারা ক্লাসে আসতে লজ্জা না পায়। একটি জরিপে দেখা গেছে প্রায় অর্ধেক স্কুলই এখন ক্ষুধার্ত পরিবারগুলোকে ফুড ব্যাংকে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে।
আবাসন বিষয়ক চ্যারিটি শেল্টার এবং শিক্ষকদের ইউনিয়ন নাসুওয়ট মিলে ১১ হাজার শিক্ষকের ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। সরকারি তথ্যমতে বর্তমানে ইংল্যান্ডে এক লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি শিশু অস্থায়ী বাসস্থানে থাকছে যা একটি রেকর্ড। অনেক পরিবার বিএন্ডবি বা ছোট হোস্টেলে গাদাগাদি করে থাকছে যেখানে রান্নার বা কাপড় ধোয়ার ভালো ব্যবস্থা নেই।
জরিপে দেখা গেছে প্রায় ৪৯ শতাংশ স্কুল এখন নিয়মিত হোমলেস পরিবারগুলোকে ফুড ব্যাংকের খোঁজ দিচ্ছে। অনেক সময় বাসা স্কুল থেকে দূরে হওয়ায় ৪১ শতাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষকরাই ছাত্রদের স্কুলে আনা-নেওয়া করছেন। এমনকি ২৫ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন তারা ছাত্রদের স্কুলের ইউনিফর্ম ধুয়ে দেন কারণ তাদের বাসায় কাপড় ধোয়ার সুযোগ নেই।
টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী আলিসিয়া স্যামুয়েলস জানান তিনি তার ছয় বছরের ছেলে ইয়নকে নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের এক রুমের অস্থায়ী বাসায় ইঁদুরের উপদ্রব এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে ছেলের কানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন ছেলের এই কষ্টের কথা স্কুলে জানাতে তিনি লজ্জিত বোধ করেন এবং তার ছেলের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সারে স্কয়ার প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ম্যাট মর্ডেন জানান তার স্কুলের এক-চতুর্থাংশ শিশুই হোমলেস এবং তারা প্রায়ই অসুস্থ থাকে। শেল্টারের প্রধান সারা এলিয়ট সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন আগামী ১০ বছর ধরে প্রতি বছর ৯০ হাজার সোশ্যাল হোম তৈরি করার জন্য। শিক্ষকদের ইউনিয়ন বলছে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছে কিন্তু এই আবাসন সংকট সমাধান করা তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়।


