বার থেকে সংসদেঃসিলেট বিভাগের একাধিক আইনজীবী জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী

বার থেকে সংসদেঃসিলেট বিভাগের একাধিক আইনজীবী জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী

সুবর্ণা হামিদ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ঘিরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নজরকাড়া চিত্র দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন আদালতে ন্যায়বিচারের পক্ষে লড়াই করা কয়েকজন আইনজীবী এবার সরাসরি সংসদে গিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির পাঁচজন আইনজীবীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার মোট নয়জন আইনজীবী ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে আইনজীবী প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। 

৪ জন আইনজীবী প্রার্থী দিয়ে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রার্থীরা সিলেট বিভাগের একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৩ জন আইনজীবী প্রার্থী নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। দলটির প্রার্থীরা সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন আসনে নির্বাচন করছেন।

১ জন করে আইনজীবী প্রার্থী রয়েছে বাম ও ছোট দলগুলোতে। এর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা পৃথক পৃথক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও ১ জন আইনজীবী প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবীদের মধ্যে একজন সিলেট-০৬ (বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবং আরেকজন সিলেট-০১ আসনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সুনামগঞ্জ জেলার দুইটি আসনে আইনজীবীরা নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-০৩ (জগন্নাথপুর–শান্তিগঞ্জ) এবং সুনামগঞ্জ-০২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে পৃথক দুইজন আইনজীবী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মৌলভীবাজার-০৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে দুইজন আইনজীবীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে হবিগঞ্জ জেলার দুইটি আসনেও, যেখানে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-০৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে তিনজন আইনজীবী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই চলছে।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির পাঁচ আইনজীবীর মধ্যে সিলেট-০৬ (বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। সিলেট-০১ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন।
সুনামগঞ্জ-০৩ (জগন্নাথপুর–শান্তিগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান। সুনামগঞ্জ-০২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন দাস খোকন।
মৌলভীবাজার-০৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব। একই আসনে সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট আবুল হাসান।
হবিগঞ্জ-০৪ (চুনারুঘাট–মাধবপুর) আসনে এবি পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হোসেন। হবিগঞ্জ-০৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান।
এদিকে সুনামগঞ্জ-০৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে আইনজীবীদের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শামস উদ্দিন, বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বললে সুনামগঞ্জ-০৪
আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল বলেন-আইন পেশার কারণে মানুষের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এ পেশার সূত্রে মানুষ সহজেই তাদের সমস্যা আমাদের কাছে তুলে ধরে। তাই ভোটারদের কাছে পৌঁছানো আমার জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হবে বলে মনে করি। রাজনীতিতে আরও বেশি আইনজীবী অংশ নিলে মানুষের আইনি সমস্যাগুলো সংসদে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সংসদে সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশাও করি।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাসান বলেন-আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করেছি। সংসদ মূলত আইন প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দু, তাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে অংশ নেওয়া আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আমার লক্ষ্য হলো জনগণের আরও কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা বুঝা এবং সংসদে পৌঁছালে বিশেষভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাম বলেন-সংসদ হলো আইন প্রণয়ের প্রধান মঞ্চ। সেখানে যত বেশি শিক্ষিত ও আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞ মানুষ থাকবেন, তত বেশি কার্যকর আইন প্রণয়ন ও আইনের সুশৃঙ্খল চর্চা সম্ভব হবে। আমার যেসব সহকর্মী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের সবাইকে শুভকামনা জানাই। তবে আইনজীবী প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়লে তা রাষ্ট্র ও সংসদের জন্য ইতিবাচক হবে।

এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাহমিনা ইসলাম বলেন-আইনজীবী প্রার্থীদের সংসদে অংশগ্রহণ দেশের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা আইন প্রণয়ন ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া আইনজীবীদের উপস্থিতি নির্বাচনী কর্মকাণ্ডকে আরও তথ্যভিত্তিক ও ন্যায়সংগত করে তোলে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।

আইন পেশার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে সংসদে কাজে লাগানোর প্রত্যাশায় এসব আইনজীবী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।